মানব সভ্যতাই হচ্ছে একটি উপন্যাস যা কখনই লেখা হয়নি। আমরা যা কিছুই পড়ি তার সবই কিন্তু বিদ্যান ব্যাক্তির দ্বারা লিখা ছিলনা অথবা কোন তথাগত বুদ্ধ এসে লিখে ফেলেন নাই। মানব সভ্যতা একটি আধুনিক ধারনা হলেও সভ্যতার বীজ অলিখিত অবস্থায় ছিলো বহুকাল। তবে হয়তো এই প্রশ্নই মনে জাগবে যে তাহলে কে বা কারা সদূর অতীতে সভ্যতার বীজ বপন করেছিল।
আমরা এখন প্রত্যেক প্রত্যুষে ঘুম ভাঙ্গলে নিজেকে প্রশ্ন করিনা নিজে আত্মপরিচয় জানতে। এখনকার সচেতনতা ইউরোপের মধ্যযুগের ফেয়ারি টেল বা পরী ডাইনীবুড়ি, ওয়ারউলফ, ড্রাকুলা অধ্যায়কে অনেক পিছে ফেলে রেখে এসেছে। আমাদের সকল জানা অজানা জ্ঞানের অনেক অনেক বাহিরের এই সচেতনতাই হচ্ছে এই আধুনিকতা। এখানে বুঝার মত এবং বোঝানোর জন্য উপাদনের কোন অভাব নাই এটা আমরা সবাই কম বেশি জানি। রবিন হুডের ভালোয় আর মন্দে মিশেল চরিত্র কিংবা শার্লক হোমস আমাদের শিশুকালের সময়টা অনাবিল আবেশে ভরে দিতো। কোনকিছুর চুলচেরা বিশ্লেষন কিভাবে করতে হয় সেটা শিখতে না পারলেও একটি বিশ্লেষনী মনন তৈরীতে এসব বই সামর্থ যুগিয়েছে অবশ্যই।
জীবন একটি সূচনা নয় নয় কোন অবতারনিকা। জীবন হচ্ছে উপলব্ধি। একগুচ্ছ উপলব্ধির টানাপোড়েনই হল মানুষের জীবন। আজকে যে উপলব্ধিটুকু খুব গুরুত্বপূর্ন মনে হবে আগামী দিনে সেটাই বাসী হয়ে যেতে পারে। তাই আমাদের উপলব্ধির কাছে আমরা সবাই কমবেশি ঋনি। লেখক মাত্রেই উপলব্ধির ধারনা সরবরাহ করে বলে বিবেচিত হয়। কেননা লেখকের নিস্করুন ঘটনার বর্ননা নানা ধারনার সঙ্গে পরিচিত করে অবশেষে পাঠকের মনে একটি দারুন উপলব্ধির জন্ম দেয় মনে। এটা পরোক্ষ অভিজ্ঞতা হলেও এবং অদৃশ্য ভবিষৎকে না জানলেও অবশ্যই সামগ্রিক ভবিতব্যের সম্বন্ধে পরিস্কার চিত্র ধারন করতে সক্ষম মনের মধ্যে প্রশান্তি আনতে অনেক বেশী ভূমিকা রাখে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন